ছবি

জিহাদ সম্পর্কিত কোরআন এর সকল আয়াতের রেফারেন্স


জিহাদ সম্পর্কিত কোরআন এর সকল আয়াতের রেফারেন্স

• জিহাদ করার সুস্পষ্ট আদেশ ও না করার পরিনতি-২:১৫৪, ২:১৯০-১৯৪, ২:২১৬, ২:২৪৪, ৩:১৪২, ১৯৫, ৪:৭১-৭৬, ৪:৭৭-৭৮, ৪:৯৫, ৪:১০০, ৮:১২-১৬, ৮:৩৯-৪০, ৯:১৯-২০, ৯:২৯, ৯:৩৮-৪২, ৯:৪৪-৪৯, ৯:৭৩, ৯:৮১-৮৯, ৯:৯৩, ৯:৯৫-৯৬, ৯:১১১, ৯:১২৩, ২২:৩৯, ২৫:৫২, ৪৭:৪-৮, ৪৭:২০-২১, ৪৭:৩১-৩৬, ৪৮:১৬-১৭, ৬১:৪, , ৬১:১০-১৪, ৬৬:৯
• জিহাদকারী সৈনিকদের সাহার্যকারী আল্লাহ্‌ স্বয়ং-৩:১৩, ৩:১১১, ৪:৪৫, ৮:৫-১০, ৮:১১-১৯, ৯:২৫-২৬, ২৪:৫৫, ২৯:৬৯, ৩৩:৯-১০, ৪০:৫১, ৪৮:৪-৭, ৬৭:২০,
• জিহাদ কার বিরুদ্ধে কেন এবং কার জন্য-২:২২১৬, ২:২১৮, ৯:২৯, ২৬:৬৯, ২৯:৬
• জিহাদকারীদের সাথে নামাজিদের তুলনা-৯:১৯-২১
• জিহাদ কালীন সর্তকতা ও করনীয়-৪:৮০-৮৪, ৯:৩-৬
• জিহাদ ঘোষনার জন্য নির্জাতিত মানুষের প্রার্থনা-২:২৪৬, ৩:১৯৫, ৪৭:২০
• জিহাদ থেকে অনুপস্থিত থাকার জন্য নানা রকম বাহানা-৯:৪২-৪৯, ৯:৮৬-৯৩, ৪৮:১১
• জিহাদ থেকে পার্থিব উন্নতি প্রধান্য পেলে তার পরিনতি-৯:৩৮-৪২
• জিহাদ থেকে বিরত থাকার হকদার কে-৯:৯১-৯২, ৪৮:১৬-১৭
• জিহাদে অনিচ্ছুক তিন জনের অনুতাপ ও ক্ষমা লাভ-৯:১১৮
• জিহাদে অনিচ্ছুক মানুষ পশুর অধম-১০০:১-৬
• জিহাদে অনিচ্ছুকদের পরিচয় ও পরিণতি-৯:৩৯-৪২, ৯:৯০-৯৩, ৯:৯৪-৯৬
• জিহাদে অবিশ্বাস কারীরা আল্লাহর সাহার্য পাবে না-৪৮:২২-২৩
• জিহাদে অর্থ সাহার্য করা ও না করার ফলালফল-২:২৪৫, ৮:৬০, ৯:২০-২২, ৯:৪১, ৪৭:৩৮, ৫৭:১০, ৫৭:১১-১২, ৬১:১০-১২, ৬৪:১৭
• জিহাদে আল্লাহ্‌ মুজাহিদদের কিভাবে সাহার্য করেন-৩:১২৬-১২৭, ৩:১৫০-১৫৫, ৮:৪২-৪৫, ২৭:১৬-২০, ৩৩:৯
• জিহাদে ইমানদার ও মুনাফিকদের পার্থক্য নির্নয় হয়-৩:১৫৬-১৬৮, ৩:১৭৩-১৭৫, ৮:৪৭, ৩৩:১০-১৫
• জিহাদে ইমানদারগণ বিজয়ি হলে মুনাফিকরা কি বলে-৮:৪৯
• জিহাদে কখন মুজাহিদদের পরাজয় হয়-৩:১৫২-১৫৩, ৩:১৬৫, ৮:১১
• জিহাদে বন্ধিদের সাথে ব্যবহার বিধি-৮:৬৭, ৮:৭০-৭১, ৯:৫-৬, ৪৭:৪
• জিহাদে বিজয় সংখ্যাধিক্যের উপর নির্ভর করে না-২:২৪৯-২৫১, ৮:৪৬-৪৮, ৮:৫৯-৬০, ৮:৬৫-৬৬, ৯:২৫-২৬
• জিহাদে ভিত হয়ে সন্ধি প্রার্থনা করা নিষিদ্ধ-৪৭:৩৫
• জিহাদে গনিমতের মালের বন্টন বিধি-৮:১, ৮:৪১, ৮:৬৯, ৪৮:১৫, ৪৮:২০-২১, ৫৯:৬-৮
• জিহাদে মৃত্যুর ভয় অবাঞ্চিত-২:২৪৩
• জিহাদে যোগদান করতে দেয়া হয়নি কাদেরকে-৯:৪৩-৪৭
• জিহাদে জন্য পোশাক ও অস্ত্র নির্মান করার আদেশ-১৬:৮১, ২১:৮০, ৩৪:১০-১১, ৫৭:২৫
• জিহাদের ময়দান থেকে পলায়ন কারীর পরিনাম-৪:১০৪, ৮:১৫-১৬, ৮:৪৫-৪৭, ৮:৬০-৬২,
• জিহাদের সময় কাফের ও মুনাফিকদের সম্পর্কে বিশেষ বিধি-৪:৮৯-৯১,
• জিহাদের সময় ধৈর্য ধারন করা আবশ্যক-৩:১৪৬-১৪৮, ৩:১৯১-১৯৫, ৪:৯৫-৯৬, ৯:১৯-২০
• জিহাদের সৈনীকদের শ্রেষ্টত্ব মর্যাদা ও পুরস্কার-৩:১৪৬-১৪৮, ৩:১৯১-১৯৫, ৪:৯৪-৯৬, ৯:১৯-২০, ৬১:৪

সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিন। আল্লাহর বানী প্রচারে সহায়তা করুন।

গ্যালারি

টাঙ্গাঈলের যৌন পল্লী ও সেখানে জন্ম নেওয়া কিছু জারযের পরিচয়

This gallery contains 1 photo.


সম্প্রতি টাঙ্গাঈলে উচ্ছেদ হওয়া যৌন পল্লীতে যৌন কর্মীরা আবার ফিরতে শুরু করেছে। আর তাদের রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্ব নিয়েছে সেখানে জন্ম নেওয়া একদল যারজ। যৌনপল্লী আবার বন্ধের দাবীতে যখন আলেম ওলামা ও আল্লাহ ভীরু মুসলিমের আন্দোলোন করছে ঠিক সেই সময়ে ঐ যৌন … বিস্তারিত পড়ুন

গ্যালারি

সমাজ-কল্যান মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর প্রতি হুঁশিয়ারী

This gallery contains 1 photo.


যৌনপল্লী উচ্ছেদকারী আলেম ওলামাদের শিরচ্ছেদ করতে চাওয়া সমাজ-কল্যান মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর প্রতি হুঁশিয়ারী যেই দেশের সমাজ-কল্যান মন্ত্রী বলে যে “যেই আলেম ওলামারা টাঙ্গাইলের যৌনপল্লী উচ্ছেদ করেছে তাদের সৌদি আরবেরর আঈনে শিরচ্ছেদ করা প্রয়োজন” সেই মন্ত্রীর দ্বারা দেশের সমেজের কি … বিস্তারিত পড়ুন

গ্যালারি

আর কতদিন চুপ থাকবেন ? আর কত নির্যাতন সহ্য করবেন ! ?

This gallery contains 1 photo.


* ইসলাম ও রাসূল (সঃ) কে নিয়ে যারা অকথ্য ভাষায় কটুক্তি করল, সেই কটুক্তিকারীদের অধিকাংশদের কিছু বললাম না, তখনও আমরা নীরব রইলাম। * দেলোয়ার হোসেন সাঈদী সহ জামাত-শিবিরের নেতা কর্মীদের গ্রেফতার ও অমানবিক নির্যাতন করা হল, তখনও আমরা নীরব রইলাম।-(আল্লাহ … বিস্তারিত পড়ুন

গ্যালারি

খুব মজার একটা গল্প ( বাস্তবে কারোর সাথে গল্পের চরিত্র কাকতালীয় ভাবে মিলে গেলে তার জন্য আমি দায়ীনই)


কোন এক সময়ের কথা বান্ডিয়াদেশ নামে একটা রাষ্ট্রছিল। যেই দেশের অধিকাংশ মানূষ মুসলমান হওয়া সত্বেও সে দেশ পরিচালিত হত কুফরী শাষন ব্যবস্থ্যায়। আর দেশ পরিচালনা করত কিছু মুসলীম নামধারী কাফের। তার ওপর সেইদেশের সরকার প্রধান ছিল এক কুচক্রী, ক্ষমতা লোভী, … বিস্তারিত পড়ুন

গ্যালারি

হ্বকের পথে চলা ও তাদের সমর্থনে কথা বলা প্রত্যেক মুসলমান জঙ্গী

This gallery contains 1 photo.


আল্লাহ অবশ্যই ইসলামের বিজয় দান করবেন, কাফের ও তাদের সমর্থকরা তাদের সর্বশক্তি প্রয়োগ করেও ইসলামের বিজয় ঠেকাতে পারবেনা। এমন একদেশে বাস করছি যেখানে ইসলামের অবমাননা কারী কাফের-মুনাফফেক দের বিরুদ্ধে কথা বলা, রাসূল(সঃ) এর অবমাননার বিচার চাওয়া, ইসলামের শাষন চাওয়া নিরীহ … বিস্তারিত পড়ুন

গ্যালারি

আইমান-আল-জাওয়াহিরির বার্তা ও আমার স্পষ্ট অবস্থান সম্পর্কে

This gallery contains 1 photo.


আমার অবস্থান আগেও স্পষ্ট ছিল, এখন ও আছে… আমি গনতন্ত্র সমর্থন করি না। গনতন্ত্র ইসলামে হারাম এই বিষয়ে আমি পূর্বে অনেক পোষ্টেই লিখেছি। আর আইমান-আল-জাওয়াহিরির অডিও বার্তা গনমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর, অনেক মুনাফিকদের চেনা গেছে, আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ আমাদের পথ কে … বিস্তারিত পড়ুন

গ্যালারি

নাস্তিক-কাফের ব্লগার রাজীব রাসূল (সঃ) সম্পর্কে যে সকল কটুক্তি করেছিল তার সামান্য একটা নমুনা

This gallery contains 2 photos.


নামাজ ও রাসূল (সঃ) সম্পর্কে কটুক্তিঃ “মহাম্মক তার ইয়ার দোস্ত লইয়া, প্রায়শ কাবা প্রাঙ্গনে আরবী খাইয়া(মদ বিশেষ)পড়িয়া থাকিত। মহাম্মদ যখন বেহুঁশ হইয়া পড়িয়া রহিত,তখন তাহার ইয়ার দোস্তরা এই গোল্ডেন ওপরচ্যুনিটি মিস করবে কেন!!?? সবার তো আর উম্মেহানী নাই। ইয়ার দোস্তদের … বিস্তারিত পড়ুন

গ্যালারি

আমি চিৎকার করে বলতে চাই আমি জঙ্গী

This gallery contains 1 photo.


কোরান হাদীসের কথা বললে, ইসলাম বিরোধীদের বিরুদ্ধে কথা বললে, ইসলামী আঈনের প্রতিষ্ঠার কথা বললে জদি মানুষ জঙ্গী হয়, তবে আমি জঙ্গী। আর যারা নিজেদের বঙ্গালী পরিচয় দিয়ে, মুসলীম সেটা ভুলে গিয়ে, আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে, কোরান হাদিসের জ্ঞান না রেখে … বিস্তারিত পড়ুন

গনতন্ত্র ইসলামে হারাম ও কুফরী (কোরআন ও হাদীসের আলোকে )


আমাদের সংবিধানেই বলা আছে ” আল্লাহর উপর পূর্ন আস্হা ও বিস্বাস “। তাছাড়া আমাদের সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতার এবং সকল সম্প্রদায়ের সমান অধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে, একইসঙ্গে ইসলামকে প্রধান ধর্ম ঘোষণা করে নিজেকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

 

ইসলামী আইন ও গনতন্ত্রের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরার চেষ্ট্রা করা হলো।liwa

 

*রসূল(সাঃ) ইসলাম প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গণতন্ত্রকে বা প্রচলিত অন্য কোনো ব্যবস্থাপনাকে মেনে নেননি। নেওয়ার প্রশ্নই আসেনা, কারণ তিঁনি কিতাব প্রাপ্ত হয়েছেন আল্লাহর কাছ থেকে,এ্যারিষ্টটলের কাছ থেকে নয় বা রোমের বাদশাহের কাছ থেকে নয়।

*তাই ইসলামী রাজনিতী তে গনতন্ত্র মেনে নেয়া যায় না।

 

*গণতন্ত্রের জন্মদাতা হলেন এ্যরিষ্টটল এবং তিনি প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে এ ব্যবস্থাপনা তৈরী করেছেন। এরপর তারই পথ ধরে যুগে যুগে গণতন্ত্রের অনেক প্রবক্তা এসেছেন এবং গণতন্ত্রের মূল সূত্র ঠিক রেখে তাকে নানাভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন।

আমরা যদি গণতন্ত্র সম্পর্কে বলি –

আল-কোরআন ও গণতন্ত্রের মধ্যে পার্থক্যঃ 

 

আল-কুরআনঃ “যাবতীয় ক্ষমতা শুধুমাত্র আল্লাহরই জন্য|” [২:১৬৫]গনতন্ত্রঃ জনগনই সকল ক্ষমতার উৎস ।

আল-কুরআনঃ “আল্লাহ ছাড়া কারও বিধান দেবার ক্ষমতা নেই।” [১২:৪০]গনতন্ত্রঃ আইন প্রণয়নের ক্ষমতা জনগনসংসদমন্ত্রী-এমপির (মদপতিতালয় বৈধও হতে পারে) ।

আল-কুরআনঃ আল্লাহ তাআলা সার্বভৌমত্বের মালিক। [৩:২৬]গনতন্ত্রঃ সার্বভৌমত্বের মালিক জনগন। 

আল-কুরআনঃ “(হে নবী) আপনি যদি অধিকাংশের রায়কে মেনে নেন তাহলে তারা দ্বীন থেকে বিচ্যুত করে ছাড়বে|” [৬:১১৬]গনতন্ত্রঃ অধিকাংশের রায়ই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত। 

আল-কুরআনঃ “আল্লাহ তাআলা ক্রয়-বিক্রয় বৈধ করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন। ” [২:২৭৫]গনতন্ত্রঃ গণতন্ত্র সূদভিত্তিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করে।

আল-কুরআনঃ ব্যভিচার শাস্তিযোগ্য অপরাধ। [২৪:২]গনতন্ত্রঃ সংসদ পতিতালয়ের (যিনা) লাইসেন্স দেয়। 

আল-কুরআনঃ সৎকর্ম ও খোদা ভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। [৫:২]গনতন্ত্রঃ অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রার্থী নিজের সুনাম ও প্রতিদ্বন্দ্বীর কুৎসা রটায়।

আল-কুরআনঃ মদজুয়ালটারী নিষিদ্ধ। [৫:৯০]গনতন্ত্রঃ মদ এর লাইসেন্স দেয়। জুয়ালটারী বৈধ।

আল-কুরআনঃ “হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না।তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবেসেতাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না। ” [৫:৫১]গনতন্ত্রঃ কোন সমস্যা নাই। যার সাথে ইচ্ছা (আমেরিকাইসরাইল) বন্ধুত্ব কর।এখন সিদ্ধান্ত আপনাদের হাতে—- গনতন্ত্র গ্রহন করবেন নাকি ইসলাম ?

 

“যারা আমার আবতীর্ণকরা বিধান দ্বারা সমাজে বিধান দেয়না বা শাসনকাজ পরিচালনা করেনা , তারাই কাফির, …তারাই জালিম, …তারাই ফাসিক।”(সূরা মায়েদাহঃ ৪৪-৪৬) 

সুতরাং যারা গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশ পরিচালনা করছে তারা কাফির। আর যারা এই কাফিরদের উদ্ভাবিত সুদ-ভিত্তিক অর্থনীতি পরিচলনা করে, সুদ-প্রথা সমর্থন করে, সুদ ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত তারাও কুফরী করছে।

আর এই কাফিরদের যারা সমর্থন করে তাদের জন্য রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেন-“যে ব্যক্তি কোন জাতির সাথে সাদৃশ্য গ্রহণ করবে তাদের অনুকরণ এবং তাদের মত হওয়ার চেষ্টা করবে, সে তাদের মধ্যেই গণ্য হবে।“(আবু দাউদ হাদীস নং ৪০৩১) তার অর্থ এটা দাড়ায় যে যারা বাংলাদেশে গনতন্ত্র চায় ও গনতান্ত্রিক নেতাদের সমর্থন করে তারাও তাদের অন্তর্গত।

আমি অবশ্যই কাফেরদেরকে কঠিন আযাব আস্বাদন করাব এবং আমি অবশ্যই তাদেরকে তাদের মন্দ ও হীন কাজের প্রতিফল দেব। এটা আল্লাহর শত্রুদের শাস্তি-জাহান্নাম। তাতে তাদের জন্যে রয়েছে স্থায়ী আবাস, আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করার প্রতিফলস্বরূপ।-(সূরা হা-মীম সিজদাহঃ ২৭-২৮)

তোমরা কি ধর্মগ্রন্থের অংশবিশেষে বিশ্বাস কর ও অন্য অংশে অবিশ্বাস পোষণ কর? অতএব তোমাদের মধ্যের যারা এরকম করে তাদের ইহজীবনে লাঞ্ছনা ছাড়া আর কী পুরস্কার আছে? আর কিয়ামতের দিনে তাদের ফেরত পাঠানো হবে কঠোরতম শাস্তিতে। আর তোমরা যা করছো আল্লাহ্ সে-বিষয়ে অজ্ঞাত নন।(সূরা বাকারাহ আয়াত ৮৫)

“আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোন বিষয়ে ফায়সালা করলে কোন মু’মিন পুরুষ কিংবা মু’মিন নারীর নিজেদের কোন ব্যাপারে অন্য কোন সিদ্ধান্তের ইখতিয়ার থাকবে না। কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করলে সে তো স্পষ্টই পথভ্রষ্ট হবে।”(সূরা আহযাব ৩৬)

তারা কি একথা জেনে নেয়নি যে, আল্লাহর সাথে এবং তাঁর রসূলের সাথে যে মোকাবেলা করে তার জন্যে নির্ধারিত রয়েছে দোযখ; তাতে সব সময় থাকবে।এটিই হল মহা-অপমান।(সূরা তাওবাঃ৬৩)

*ইসলামের সাথে গণতন্ত্রের যে সমস্ত মৌলিক পার্থক্য রয়েছে তা হলো, আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ

 

(১) “আল্লাহ তায়ালাই হচ্ছেন তোমাদের মালিক,সার্বভৌমত্ব তারই।”(আল-কুরআন,৩৫:১৩)“অতএব পবীত্র ও মহান সে আল্লাহ,যিনি প্রত্যেকটি বিষয়ের উপর সার্বভৌম ক্ষমতার একচ্ছত্র অধিপতি।”(আল-কুরআন,৩৬:৮৩)“তুমি কি জাননা যে, আসমানসমূহ ও যমীনসমূহের যাবতীয় সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্য নির্দিষ্ট,তিঁনি ছাড়া তোমাদের কোন বন্ধু নেই, কোন সাহায্যকারী নেই ?”(আল-কুরআন,২ঃ১০৭)

 

কিন্তু গণতন্ত্রে বলা হয়েছে “সকল সার্বভৌমত্বের একচ্ছত্র মালিক জনগণ। ”

 

(২) গণতন্ত্রে দলীয় শাসন থাকে অর্থাৎ রাষ্ট্র একটি দলের লোকেরা শাসন করে। কিন্তু ইসলামিক রাষ্ট্রে বহু দলের উপস্থিতি থাকলেও, কোন দল শাসন ক্ষমতা পরিচালনা করতে পারবেনা, কারণ এতে পক্ষপাতিত্বের সম্ভাবনা খুব বেশী এবং আমরা তা বর্তমান ব্যবস্থাপনায় দেখতে পাই। খলিফা (ইসলামী রাষ্ট্রের প্রধান)বা জনগণের প্রতিনিধি কোন দলের লোক হলে তিনি দল ত্যাগ করে খলিফা হবেন। দলের সাথে তার কোন সংযোগ থাকবে না এবং তিনি যোগ্যতার ভিত্তিতে রাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যথেকে বিভিন্ন বিষয়ে কর্মকর্তা নিয়োগ করবেন।

 

(৩) গণতন্ত্রে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত শাসক ক্ষমতায় থাকে। কিন্তু ইসলামী খিলাফতে শাসক যতক্ষণ যোগ্যতার সাথে শাসনকার্য পরিচালিত করতে পারবেন ততক্ষণ থাকবেন,তিনি ব্যর্থ হলে ঐ মুহুর্তেই বিদায় নিবেন বা বিদায় করা হবে (খিলাফতকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং খলিফাকে নির্বাচিত করা যেমন ফর্‌জ তেমনিভাবে তিনি কুরআন সুন্নাহ অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ হলে তাকে হটিয়ে দেওয়াও ফর্‌জ দায়িত্ব,যা জনতা ইবাদত হিসেবে পালন করে।) ।

 

(৪) গণতন্ত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্যের মতামতে একটি আইন পাস হয় এবং তা যেকোন ব্যাপারেই হতে পারে। আইনসভার সংখ্যা গরিষ্ঠ সদস্য যদি বলে- মানুষ হত্যা করা উচিৎ তাহলে, তা আইনে পরিনত হবে(ইরাক,ফিলিস্থিন,লেবানন,আফগানিস্থানে নিরপরাধ মানুষের উপর হত্যাযজ্ঞ চালানোর আগে আমেরিকা,ইসরাইল এবং সহযোগী অন্য দেশগুলোর আইনসভায় এ সংক্রান্ত প্রস্তাব উত্থাপিত হয় এবং সংখ্যা গরিষ্ঠের ভিত্তিতে তা পাস হয় অর্থাৎ নিরপরাধ মানুষ মারার ব্যাপারটি রাষ্ট্রীয়ভাবে জায়েজ করা হয়,এ ব্যাপারে আপনারা অবগত আছেন।)

 

কিন্তু ইসলামে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামত যদি ইসলামের সুস্পষ্ট আইনের বিরোধী হয় তাহলে তা কখনই গ্রহন যোগ্যতা পাবেনা। তবে এমন কোন ব্যাপার যদি হয়- যার সাথে ইসলামের কোন বিরোধ নেই তবে সে সমস্ত ক্ষেত্রে সংখ্যা গরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ

“যারা আমার আবতীর্ণকরা বিধান দ্বারা সমাজে বিধান দেয়না বা শাসনকাজ পরিচালনা করেনা , তারাই কাফির, …তারাই জালিম, …তারাই ফাসিক।”(আল-কুরআন,৫ঃ৪৪-৪৬) 

 

(৫) গণতন্ত্রে জনগণকে শাসন তত্বাবধানের দ্বায়ীত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে জনগণের রায় নিয়ে যেই ক্ষমতায় যায়, সমস্ত ক্ষমতা তাদেরকে কেন্দ্র করে আবর্তিত,পরিচালিত হয়,শাসন ক্ষমতার ৪/৫ বছরে জনগণের আসলেই কোন ক্ষমতা থাকেনা। শাসকগোষ্ঠী ভুল করলে বা জনস্বার্থ বিরুদ্ধ কাজ করলে তা সংশোধনের জন্য ৪/৫ বছর অপেক্ষা করতে হয় নির্বাচনের মাধ্যমে আরেকটি ভাল রায় দেওয়ার জন্য এবং সেটি মিস্‌ হলে বা জনগণ প্রতারিত হলে আবারও ৪/৫ বছর কপাল চাপড়াতে হয়।

 

কিন্তু ইসলামী খিলাফত পদ্ধতিতে প্রতিনিধি বা খলিফা যে কোনো সময় ভুল করলে সমাজের যে কোন শ্রেণীর লোক সামনা সামনি খলিফার ভুল ধরিয়ে দিতে পারে, কৈফিয়ৎ নিতে পারে, এমনকি তাকে কটাক্ষ করে কথা বললেও খলিফার কিছুই করার নেই। কারণ ব্যক্তিগতভাবে রাগান্বিত হয়ে তিনি কিছুই করতে পারেন না। ভুল শুধরাতে ব্যর্থ হলে তাকে তাৎক্ষনিকভাবে বিদায় নিতে হয়।

 

(৬) গণতন্ত্রে নেতা নিজের চরিত্র সম্পর্কে উত্তম বয়ান করে তাকে ভোট দিতে বলেন এবং তিনি নেতৃত্বের যোগ্য বলে ঘোষণা করেন। শুধু তাই নয় অন্য প্রার্থী তার থেকে কোন ক্রমেই ভালো নয় একথা নিশ্চয়তার সাথে প্রচার করেন ও প্রকাশ্যভাবে বা অপ্রকাশ্যভাবে তার গীবত করেন। অনেক সময় তার বিরুদ্ধে কাল্পনিক অভিযোগ পেশ করেন এবং অন্যায়,কুটিল,অদ্ভুত চাল চালেন যাতে মানুষ তাকে ফেরেশতা এবং তার প্রতিপক্ষকে শয়তান মনে করে।

 

কিন্তু ইসলামে নেতৃত্ব চাইলেই- তিনি নেতৃত্ব দানে অযোগ্য বলে বিবেচিত হন এবং তিনি বাদ পড়েন বা বিদায় হন। রসুল(সাঃ) নেতৃত্ব দাবী করা লোকটিকে বাদ দিয়ে অন্যদের মধ্য থেকে নেতা খুঁজতে বলেছেন, কারণ নেতৃত্ব চেয়ে নেওয়ার কারনে সে নেতৃত্বের যোগ্যতা হারিয়েছে(একদা দুই প্রভাবশালী ব্যক্তি এসে রসূল (সাঃ)কে বললেন,ইয়া রাসুলুল্লাহ ! আমাদেরকে আমাদের এলাকার শাসক মনোনিত করুন। রসূল(সাঃ)বললেন,“আমরা এরুপ ব্যক্তিকে কোন পদে মনোনিত করি না,যে তার পদ চেয়ে নেয় বা পদের প্রতি লালায়িত হয়।”(বুখারী))। আর খলিফা নির্বাচনের পর যদি অন্য কেউ এসে বলে এ ব্যক্তি খলিফা হবার অযোগ্য,আমিই যোগ্য, আমাকে খলিফা বানানো হোক তাহলে রসূল (সাঃ) বলেন- এ লোকটিকে হত্যা কর। কারণ সে ফেত্‌না সৃষ্টি করতে চায়,ফেৎনা হত্যা অপেক্ষা ভয়াবহ। আর খলিফার ব্যাপারটা এমন যে খলিফা আল্লাহর আইন বাস্তবায়ন করেন। কুরআন,সুন্নাহ,ইয্‌মা,ইজতিহাদ অনুসরণ করে সমস্যার সমাধান করেন। মৌলিক ক্ষেত্রে নিজের মতামত দিতে তিনি অক্ষম তাই আল্লাহর প্রতি অনুগত মানুষ তার কথায় দ্বিমত পোষণ করেনা বরং আল্লাহর ইবাদতের স্বার্থেই জনগণ খলিফার আদেশ,উপদেশ,নিষেধ মেনে চলে। এতে জনগনের ঐক্যে ফাটল ধরার সম্ভাবনা খুবই কম (রসূল(সাঃ)বলেন,‘কোন ব্যক্তি যদি আমীরের (রাষ্ট্রের শাসক বা খলিফা)আনুগত্য ছিন্ন করে এক বিঘৎও দূরে সরে যায় এবং এই অবস্থায় তার মৃত্যু হয় ,তাহলে সেই মৃত্যু হবে তার জাহেলিয়াতের মৃত্যু।’-মুসলিম শরীফ) । খলিফা নির্বাচন নিয়ে অরাজকতা সৃষ্টির আশংকা কম, কারণ এত কঠিন দায়ীত্ব সাধারনতঃ কেউ নিতে চায় না। তাছাড়া এ দায়ীত্বের সাথে বৈষয়িক অনেক লোকসান জড়িত।

 

 

(৭) গণতন্ত্রে সরকারী দল – বিরোধী দল থাকে এবং তারা একে অন্যের প্রতিপক্ষ কিন্তু খিলাফতে বহু দলের অস্তিত্ব থাকলেও কোন দল সরকার গঠন করে না। প্রত্যেকটা দলের থেকে মানুষেরা তাদের নিজেদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য,ঈমানদার,আলিম বা উচ্চ শিক্ষিত,উত্তম চরিত্রবান,যেকোন পরিস্থিতিতে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম এমন এক বা একাধিক জনকে খলিফা মনোনিত করতে পারেন এবং এরপর নির্বাচন কমিটির(নির্বাচন কমিটির সদস্যরা খলিফা হিসেবে নির্বাচিত হতে পারবেন না) কাছে পাঠাবেন। যাকে মতোনিত করা হবে বা নির্বাচিত করা হবে তিনি নিজে এ পদ চাইতে পারবেন না,তবে মনোনিত করা হলে বিশেষ গুরুতর কারণ ছাড়া এ নেতৃত্ব প্রত্যাখ্যান করতে পারবেন না। খলিফা কোন দলের হলেও তিনি দলের প্রতিনিধিত্ব করেন না। খলিফা হবার আগে দলত্যাগ করেন এবং তার কাছে তখন জাতি, ধমর্, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষ সমান। এটি খলিফার কাছে ফর্‌জ ইবাদত তাই প্রকাশ্য ও গুপ্ত উভয় অবস্থাতে তার নীতি,প্রচেষ্টা কল্যানকর হবে।

 

(৮) গণতন্ত্রে শাসক এমন কতৃপক্ষের নিকট জবাবদিহিতার নীতিতে বিশ্বাসী হয় যাদেরকে(মানুষ) শাসক ফাঁকি দিতে পারে, আপোস রফা করতে পারে। কোন কোন ক্ষেত্রে মানুষের পক্ষে শাসকের সুক্ষ্ম ফাঁকি ধরা সম্ভব হয়না, কারণ সে সীমাবদ্ধ জীব।

 

কিন্তু ইসলামী ব্যবস্থাপনা বা খিলাফতে শাসক স্রষ্টা আল্লাহর নিকট জবাবদিহিতার নীতিতে বিশ্বাসী হয় আর আল্লাহ প্রকাশ্য ও গুপ্ত সকল অবস্থা অবগত। তিনি মানুষিকতা,বাহ্যিকতা,অতীত,বর্তমান,ভবিষ্যত সবকিছুর হিসাব রাখেন। আল্লাহকে ফাঁকি দেওয়া সম্ভব নয়,এটি খলিফা জানেন,মানেন, কারণ তিনি ঈমানদার। তিনি আল্লাহর নিকট কৈফিয়ৎ প্রদানে বিশ্বাসী।

 

(৯) গণতন্ত্র সমাজে পুঁজিবাদ প্রতিষ্ঠা করে। কিন্তু ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে- কুরআন ও সুন্নাহ যা পদ্ধতিগতভাবে পুঁজিবাদকে পুরোপুরি খতম করে।

 

(১০) গণতান্ত্রিক শাসনে সমাজে সরকারী দল ,বিরোধী দলের বিরোধ ছাড়াও উঁচু শেণী ও নীচু শ্রেণীর মধ্যে মারাত্মক বৈষম্য সৃষ্টি হয়। ইসলামী ব্যবস্থাপনা বা খিলাফতে সরকারী দল,বিরোধী দল থাকে না এবং ধনী ও দরীদ্রের বৈষম্য থাকে না।

 

(১১) গণতন্ত্রে সম্পদ শুধু ধনীদের মধ্যে আবর্তন করে এতে ধনী হয় আরো ধনী,গরীব হয় আরো গরীব। এ ব্যবস্থায় গরীবের কাছ থেকে সম্পদ পদ্ধতিগতভাবে ধনীর হাতে গিয়ে আটকে থাকে।

খিলাফতে সম্পদ ধনী ও গবীবের মাঝে আবর্তন করে। ইসলামিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠিত হবার কারনে ধনীরা গরীবের প্রাপ্য সম্পদ ফর্‌জ ইবাদত হিসেবে প্রদান করতে বাধ্য থাকে। কতিপয় ব্যক্তি কতৃক নয় বরং রাষ্ট্র কতৃক অর্থনীতি নিয়ন্ত্রিত হয় ,এতে সম্পদের ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সকল নাগরিকের কল্যান সাধন হয়।

 

(১২) গণতন্ত্রে জনগণের সম্পদ ব্যক্তি বা তাদের প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হয় আর ব্যক্তির বৈশিষ্ট হলো সে কখনই লোকসান করতে চায় না,যে ভাবেই হোক না কেন সে লাভ করতে চায়। ফলে তাদের লাভের চিন্তা জনগণের অপরিসীম দুঃখ কষ্ট বয়ে আনে।

 

কিন্তু খিলাফতে খলিফা বা শাসক জনতার পক্ষ থেকে তাদের সম্পদের(পানি,বনভূমি,তেল,গ্যাস,কয়লা ইত্যাদি) সুষ্ঠ ব্যবহার করেন এবং সুষম বন্টন করেন। খিলাফত সরকার যদি হিসাব করে দেখে তারা জনগণকে সরকারী বিভিন্ন সুবিধা,সেবা বিনা মূল্যে প্রদান করতে পারছে,তবে খিলাফত সরকার জনগণকে সেগুলো ফ্রি দিয়ে থাকে। এ সরকার লাভের চিন্তা করে না বরং সেবার দিকটিই প্রাধান্য পায়। শাসক এ কাজটি ইবাদত হিসেবে করেন ফলে নিষ্ঠা,আন্তরিকতা,একাগ্রতার ছাপ থাকে প্রতিটি বৈধ কাজে।

 

(১৩) গণতন্ত্রে কিছু পুঁজিপতি বাজার নিয়ন্ত্রণ করে এবং তারা তাদের লাভের জন্যে কৃত্তিম সঙ্কট সৃষ্টি করে লাভবান হবার চেষ্টা করে। জনগণের ক্রয় ক্ষমতা এখানে বিবেচ্য বিষয় নয়,মুনাফাই বিবেচ্য। গণতন্ত্রে এটা বৈধ এবং মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে(পুঁজিবাদে) শাসকের কিছুই বলার নেই।

 

কিন্তু খিলাফতে জনগণের ক্রয় ক্ষমতা অনুযায়ী পণ্য দ্রব্যের মূল্য নিরুপিত হয়,সরকার ব্যপক ভূর্তুকী দেয়। কতিপয় ব্যক্তি এখানে বাজার নিয়ন্ত্রণ করে না। বাজার নিয়ন্ত্রণ করে সরকার এবং পণ্য দ্রব্য মজুদ করে কৃত্তিম সঙ্কট সৃষ্টিকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বন্দোবস্ত রয়েছে। তাছাড়া শাসক জনতাকে আল্লাহর ভয়ে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আচরণ করতে উদ্বুদ্ধ করেন। ফলে সামাজিক,অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি এখানে স্বতস্ফুর্ত।

 

(১৪) গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ধনী, প্রভাবশালী শ্রেণী বেশী সম্পদশালী হবার কারনে এবং গরীবেরা পদ্ধতিগতভাবে বঞ্চিত হবার কারনে সমাজে নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি হয়। বঞ্চিতরা ক্ষুব্ধ হয় এবং তাদের ক্ষোভের বহির্প্রকাশে ধনীরা অধিক পরিমানে নিরাপত্তা হীনতায় ভূগতে থাকে,মধ্যবিত্তরাও এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সমাজে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

 

কিন্তু খিলাফত ব্যবস্থায় ধনী লোকেরা গরীবকে সম্পদের ভাগ দেওয়ার কারনে উভয়ের মধ্যে সৌহার্দপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করে ফলে ধনীরা গরীব কতৃক ক্ষতির শিকার হয়না বরং তারাই তাকে নিরাপত্তা দিতে থাকে।

 

(১৫) গণতন্ত্র তৈরী হয়েছে ইসলাম বিরুদ্ধ চিন্তা চেতনা থেকে এবং এটি কুরআন,সুন্নাহ বহির্ভূত। কিন্তু ইসলামী খিলাফত ব্যবস্থা আল্লাহ কতৃক মনোনিত এবং রসূল(সাঃ)কতৃক অনুসৃত। গণতন্ত্র তৈরী হয়েছে সৃষ্ট জীব মানুষের চিন্তা,পরিকল্পনা থেকে অপরদিকে খিলাফত ব্যবস্থা তৈরী হয়েছে মহান স্রষ্টা আল্লাহ তায়ালার পরিকল্পনা থেকে।

 

“যখন তোমাদের ধনী শ্রেণী কৃপণ হবে, যখন তোমাদের যাবতীয় কাজে কর্তৃত্ব তোমাদের নারীদের হাতে চলে যাবে, তখন তোমাদের জন্য পৃথিবীর উপরিভাগের চেয়ে অভ্যন্তর ভাগ অধিক কল্যাণকর হবে।” (তিরমিযী)

“হযরত আবু বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। যখন নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট এ সংবাদ পৌঁছলো যে, (ইরানী) পারস্যের জনগণ কিসরার কন্যাকে (মেয়ে) তাদের বাদশাহ মনোনীত করেছে, তখন তিনি বললেন, সে জাতি কখনো সাফল্য অর্জন করতে পারে না, যে জাতি স্বীয় কাজকর্মের কর্তৃত্ব ও দায়িত্বভার একজন নারীর হাতে সোপর্দ করে।” (বুখারী ও তিরমিযী)

* সবকিছু পর্যালোচনা করে কি বলা যায় না ইসলামী আইনে গনতন্ত্র ও নারী নেত্রীত্ব হারাম?